সুজনের সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশের তীব্র সমালোচনা
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীদের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের তড়িঘড়ি গেজেট প্রকাশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন।
অযোগ্য প্রার্থীদের অনুমতি ও নির্বাচন কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত করা উচিত ছিল, কিন্তু তারা তা করেনি। বরং তারা গভীর রাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করে দিয়েছে, যা তিনি হাত মুছে নেওয়ার সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, যখন অযোগ্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তখন নির্বাচনী ফলাফলের সমীকরণ বদলে যায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে ফলাফল বাতিল বা নতুন নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু এই নির্বাচনে তারা সেই দায়িত্ব পালন করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ছিল এবং তারা আদালত থেকে স্টে অর্ডার নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে অনেকে প্রয়োজনীয় নথি না দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এই সব বিষয়ে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর গেজেট প্রকাশ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচনের পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না তা সার্টিফাই করার সুপারিশও করা হয়েছিল, কিন্তু নির্বাচন কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেনি বলে তিনি দাবি করেন।
আরপিওর ৯১ ধারা ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা
তবে বদিউল আলম মজুমদার আশার বাণীও শোনান, তিনি উল্লেখ করেন যে আরপিওর ৯১ ধারা অনুযায়ী, হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ উঠলে গেজেট প্রকাশের পরেও নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং নির্বাচন বাতিল দিতে পারে। তিনি মনে করেন, এখনো এই সুযোগ রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে এই দায়িত্ব পালনে আহ্বান জানান।
সুজনের তথ্য উপস্থাপনা
সুজনের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জনের মধ্যে ১৪৭ জন ঋণগ্রহীতা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৫০ শতাংশ। এই ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া, ১২৬ জন বিজয়ী বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
সুজনের তথ্য আরও প্রকাশ করে যে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই নির্বাচনে ঋণগ্রহীতার হার বেড়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৫ শতাংশ, যা বর্তমান নির্বাচনে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুজন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জোরালো সমালোচনা প্রকাশ করেছে।
