ইশরাক হোসেনের প্রতিমন্ত্রী পদে শপথে পুরান ঢাকায় আনন্দের বন্যা
ঢাকা-৬ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় পুরান ঢাকায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের বন্যা বইছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তার শপথ গ্রহণের পরই সদরঘাট, সুত্রাপুর ও কোতোয়ালি এলাকায় মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দ মিছিল শুরু হয়, যা পুরান ঢাকার পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ে।
পুরান ঢাকাবাসীর উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা
দলমত নির্বিশেষে পুরান ঢাকার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ইশরাক হোসেনের এই অর্জনে গর্ববোধ করছেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহব্বায়ক সুমন ভুইয়া এবং কোতোয়ালি থানা যুবদল নেতা আহমেদ সোবাহানের নেতৃত্বে বের হওয়া মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা "ইশরাক ভাই মন্ত্রী হলো" ইত্যাদি স্লোগানে পুরান ঢাকাকে মুখরিত করে তোলে। সুমন ভুইয়া বলেন, "তরুণ এই রাজনীতিবিদ তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আমাদের গর্বিত করেছে।"
ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পটভূমি
১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণকারী ইশরাক হোসেন ঢাকার সাবেক সফল মেয়র ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মরহুম সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে। পারিবারিকভাবে রাজনীতির আবহে বেড়ে ওঠা তিনি ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনায় আসেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাকে ডিএসসিসির মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে, কিন্তু ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তার শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল: স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যের মোটরগাড়ি শিল্পে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।
ইশরাক হোসেনের প্রতিক্রিয়া ও লক্ষ্য
ইশরাক হোসেন বলেন, "প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো সংবেদনশীল দফতরে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।" তার প্রধান লক্ষ্য হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও যোগ করেন, "পুরান ঢাকা আমার শেকড়, এবং এখানকার সমস্যাগুলো দূর করে এলাকাকে নতুন করে সাজানো আমার অগ্রাধিকার।"
এলাকাবাসী ও বিশ্লেষকদের মতামত
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ৩৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি সোবাহান বলেন, পুরান ঢাকার গ্যাস সংকট, যানজট ও সংকীর্ণ রাস্তার মতো নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানে ইশরাক হোসেনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। এলাকাবাসী বিশ্বাস করেন যে তার নেতৃত্বে সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মতো অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ হবে।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইশরাক হোসেনের মতো উচ্চশিক্ষিত ও তরুণ নেতৃত্বের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি প্রশাসনে গতিশীলতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া আনবে। এখন দেখার বিষয়, তার তারুণ্যের উদ্যম দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে কতটুকু এগিয়ে নিতে পারেন।
