পটুয়াখালী-৪ আসনে এবিএম মোশাররফের মন্ত্রিত্বের দাবি: স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও উন্নয়নের চাহিদা
পটুয়াখালী-৪ আসনে এবিএম মোশাররফের মন্ত্রিত্বের দাবি

পটুয়াখালী-৪ আসনে এবিএম মোশাররফের মন্ত্রিত্বের দাবি: স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও উন্নয়নের চাহিদা

দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরাল হয়েছে। স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের এই দাবি তুলে ধরেছেন, যাতে একাধিক মেগা প্রকল্পের উন্নয়ন ও তদারকি নিশ্চিত করা যায়।

মেগা প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু পটুয়াখালী-৪

এই আসনের কলাপাড়ায় অবস্থিত দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা সমুদ্র বন্দর, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি। এছাড়াও, ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি বানৌজা শেরেবাংলা এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র এ অঞ্চলের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন দেশের ইন্টারনেট সংযোগে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয়দের মতে, এতগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও সঠিক তদারকি ও সমন্বয়ের অভাবে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনমানের প্রত্যাশিত উন্নয়ন এখনো দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী স্বাস্থ্যসেবা, নদীভাঙন রোধ, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে পিছিয়ে রয়েছে। বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও দ্বীপ এলাকা হওয়ায় রাঙ্গাবালী দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার, যা একটি পূর্ণমন্ত্রীর নেতৃত্বে দূর করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অতীতের নজির ও বর্তমান দাবি

অতীতেও এই আসন থেকে মন্ত্রিত্বের নজির রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী মন্ত্রিপরিষদে এই আসনের সংসদ সদস্যকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে এই আসনের এমপি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয়রা মনে করেন, পূর্বের এই রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রমাণ করে যে পটুয়াখালী-৪ মন্ত্রিত্ব পাওয়ার মতো গুরুত্ব বহন করে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবিএম মোশাররফ হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি আরও শক্তিশালী হয়েছে। কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় করে দক্ষিণাঞ্চলকে শিল্প ও বাণিজ্যের শক্তিশালী অঞ্চলে পরিণত করতে মন্ত্রী পর্যায়ের সক্রিয় নেতৃত্ব অপরিহার্য।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও জাতীয় গুরুত্ব

সচেতন মহল মনে করেন, মেগা প্রকল্পগুলোর সুফল স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছানো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সড়ক ও নৌযোগাযোগ উন্নয়ন এবং নদীভাঙনসহ দুর্যোগ ঝুঁকি কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে এ অঞ্চলের কণ্ঠস্বর জোরালো করা প্রয়োজন। আর এটি সম্ভব মন্ত্রিসভায় সরাসরি প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উল্লেখ করেন, ভৌগলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তার দিক থেকে পটুয়াখালী-৪ এখন জাতীয় গুরুত্বের আসনে পরিণত হয়েছে।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধি এবং অবহেলিত দ্বীপ ও চরাঞ্চলের টেকসই অগ্রগতির জন্য মন্ত্রী পর্যায়ের নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উপকূলীয় জনপদের উন্নয়নের প্রশ্নে পটুয়াখালী-৪ আসনের মানুষের প্রত্যাশা হলো, তাদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধি মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে দক্ষিণাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেবেন।