জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, কেউ যদি গুণ্ডামি করেন বা অন্যের জায়গা-জমি দখল করেন, তাহলে আমি আপনার পাশে নেই। আপনার চাকরির জন্য প্রয়োজনে আমি কর্তৃপক্ষের কাছে মিনতি করব, ব্যবসা করতে চাইলে অর্থের ব্যবস্থা করে দেব; কিন্তু কারো সঙ্গে গুণ্ডামি করবেন দুর্নীতি করবেন- এটা আমি একবিন্দুও ছাড় দেব না।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে একটি খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কমলনগর উপজেলার ৯ নম্বর তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে ভুলুয়া নদী পর্যন্ত খাল পুনঃখনন কাজের সফলতা কামনায় আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান।
এ সময় নিজের দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে হুইপ নিজান বলেন, আওয়ামী লীগ কেন ক্ষমতা থেকে পালিয়েছে তা সবাই জানেন। আমি দুর্নীতি, লুটপাট বা ভাগাভাগিতে নেই। পতিত সরকারের সময় ইউএনও, ওসি ও সচিবদের দিয়ে জোরপূর্বক বক্তৃতা করানো হতো, জয় বাংলা বলানো হতো। আমরা এমনটি হতে দেব না। আমরা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাজের সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট উত্তরণে সরকার ভর্তুকি দিয়ে তেল আমদানি করছে। হাওড়ের কৃষকদের জন্য তিন মাস সাত হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের দাম বাড়লেও সরকার ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সার সাড়ে ছয় হাজার টাকায় কিনে কৃষকদের সুলভ মূল্যে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হাওড়ে অতিবৃষ্টির কারণে ফসলহানির দায় বিএনপির নয়। যুদ্ধ বিএনপি আনেনি। তাই দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ বর্তমান সংকট কেটে যাবে এবং আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। আমার নেতা তারেক রহমান ও বিএনপির সরকারের জন্য আপনারা দোয়া করবেন।
সবশেষে খাল খনন কাজটি যেন সঠিকভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সেই বিষয়ে স্থানীয়দের সজাগ থেকে তদারকি করার নির্দেশ দেন হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান, ওসি ফরিদুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা।



