দেশে কোরআনের আইন চালুর দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
কোরআনের বিধান চালুর প্রয়োজনীয়তা
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশে কোরআনের বিধান চালু হওয়া উচিত। যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে, তাদের দায়িত্ব নামাজ ও যাকাত চালু করা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, অতীতে কোনও সরকারই সংসদে কোরআনের একটি আইনও চালু করেনি।
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের নিন্দা
এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন প্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, বড় বড় আলেমদের ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বিজ্ঞাপন প্রচারের তীব্র নিন্দা জানান মুজিবুর রহমান। এ ধরনের অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।
গণভোটের শপথের দাবি
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য গণভোটের ফলাফলকে শপথের আওতায় এনে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি কোনও কারণে গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তবে বর্তমান সংসদ সদস্যদের পদও বাতিলের আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গণভোট প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, একই অর্ডারে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলো, আবার গণভোটও হলো। আমরা সংসদ সদস্যের শপথ নিলাম, কিন্তু গণভোটের শপথ নিলাম না। বর্তমান আইনজ্ঞরা পর্যালোচনা করছেন, যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সংসদ সদস্য পদও বাতিল হওয়ার আশঙ্কা আছে। শেষ পর্যন্ত আমও যাবে, ছালাও যাবে।
গণভোট নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিরসনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটকে শপথ দিয়ে এটাকে কার্যকরী করতে হবে। তা না হলে এই দ্বন্দ্বের সমাধান হবে বলে মনে হয় না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি অক্ষরে অক্ষরে এটি পালন করবেন। তাহলে শপথটা নিতে অসুবিধা কোথায়? আমরা তো বুঝি না। তাই শপথ নিয়েই এই সংকটের সমাধান করতে হবে।



