ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১২টির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপর একটি মনোনয়ন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি চাকরির পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে।
আইনগত জটিলতা
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বা এই পদে বহাল থাকার সুযোগ নেই। কিন্তু মনিরা শারমিন শতভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছাড়ার মাত্র চার মাসের মাথায় নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন। আইনজ্ঞরা মনে করছেন, তার এই মনোনয়নের বৈধতা নেই।
জোটের প্রার্থী তালিকা
বিরোধীদলীয় জোট জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে ১৩টি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আটজন, এনসিপির দুজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন, জাগপা থেকে একজন এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া এক শিশুর মাকে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রার্থীরা মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জোট মনোনীত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়। মনিরা শারমিন ছাড়াও এনসিপির নারীশক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা আলমকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
মনিরা শারমিনের পটভূমি
এনসিপির নারীশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে নিয়োগ পান। প্রথমে কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দিয়ে পরে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়েছেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে চাকরির তথ্য রয়েছে।



