ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম, ক্ষোভ ডেপুটি স্পিকারের
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম, ক্ষোভ ডেপুটি স্পিকারের

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকায় ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে হয়নি। তালিকা প্রণয়নে অনেক রকম অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক সচ্ছল পরিবারও ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে যারা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের মধ্যে অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

আজ শনিবার বিকেল চারটার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ

ক্ষোভ প্রকাশ করে কায়সার কামাল বলেন, 'কয়েক দিন ধরে আমি এলাকায় অবস্থান করছি। অনেক অসহায়–বঞ্চিত মানুষের খোঁজখবর নিয়ে আমি জানতে পেরেছি এই অসংগতির কথা। কার্ড না পাওয়া এসব বঞ্চিত মানুষের ব্যথা আমি বুঝি। নির্বাচনের আগে আমি পকেটে দুটি কার্ড—একটি ফ্যামিলি কার্ড, অপরটি হেলথ কার্ড নিয়ে বলতাম, এই কাজগুলোতে কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না; কিন্তু আমি লক্ষ্য করেছি, যাদের জন্য বেশি প্রয়োজন, তাঁরা হয়তো অনেকেই এই কার্ড পাননি। সে জন্য আমি তাদের কাছে হাত জোড় করে দুঃখ প্রকাশ করছি। এ বিষয়টি আমি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখব।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তালিকা প্রণয়নে সতর্কবার্তা

কায়সার কামাল আরও বলেন, 'তালিকা প্রণয়নের কাজটি যাঁরা করেন বা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে আমি বলছি এবং যেহেতু এটা প্রথম, তাই আমি অনুরোধ করে বলছি, আর যেন এ রকম না হয়। এই কার্ড প্রণয়নে যদিও টাকা লেনদেনের কোনো অভিযোগ আমি পাইনি; কিন্তু উপকারভোগী নির্বাচনে আমি কিছুটাও অসংগতি পেয়েছি। তাই কোনোরকম দুর্নীতি হলে যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ করব। এটা আমি স্পষ্ট বলে দিচ্ছি—কারণ, আমি বারবার বলি নিজে কখনো দুর্নীতি করব না, অন্যকেও আমি করতে দেব না। কাজের গাফিলতিও কিন্তু একধরনের দুর্নীতি। তাই এ বিষয়টা সবাই মনে রাখবেন। আমার এই সংসদীয় আসনে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টানসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। সুতরাং দল–মত–ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে প্রকৃতভাবে যারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য, তাঁরাই যেন পান।'

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা

ডেপুটি স্পিকার বলেন, 'বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যেসব কথা বলেন, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করেন এবং পরিকল্পনাগুলো সুসংগঠিতভাবে সাজিয়ে রাখেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এখন তিনি সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন। একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শুধু একজন নেতার ইচ্ছা থাকলেই হবে না, সমাজের ভালো ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বহুদিন ধরেই ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, ফার্মার্স কার্ড ও ফোর্স কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করে আসছিলেন। প্রবাসে থাকার সময়েও তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে এসব পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন।'

কায়সার কামাল আরও বলেন, 'গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে লাখো মানুষের সামনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, "আই উইশ আ প্ল্যান"। এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; বরং একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা ছিল। তিনি তখনই সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং এখন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছেন।'

উদ্বোধন ও অন্যান্য বক্তব্য

এর আগে শনিবার বেলা তিনটায় চাঁদপুর থেকে সারা দেশে একযোগে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। নেত্রকোনায় জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহ আলম। ডেপুটি স্পিকার ছাড়াও বক্তব্য দেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য চিকিৎসক মো. আনোয়ারুল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নুরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, লেংগুরা গ্রামের লাভলি রংদি, নূরজাহান, দীপা রানী সরকার প্রমুখ।

উপকারভোগী নির্বাচনের তথ্য

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অনলাইনে আবেদন করেছেন মোট ১ হাজার ১০ জন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৭৯৪টি পরিবারকে সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের অন্যান্য সুবিধার আওতায় থাকায় ১১০ জন সার্ভারে প্রবেশ করেও আবেদন করতে পারেননি।