যশোরের চৌগাছা উপজেলায় একটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ করা প্রায় ১৮ মেট্রিক টন গম আত্মসাৎ ও সরকারি অর্থের অপব্যবহারের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ভার্চুয়ালি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত দুদকের সাবেক উপপরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী সোমবার (২৯ জুন) বিকালে অনলাইনে সাক্ষ্য দেন।
ভার্চুয়াল আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ
যশোরের বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস. এম. নূরুল ইসলাম তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার দুপুরে গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০১-০২ অর্থবছরে চৌগাছা উপজেলার খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পুকুর পুনর্খনন প্রকল্পের জন্য ১৮ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও সদস্যসহ পাঁচ জন যোগসাজশে বরাদ্দ করা গমের হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ করেন। একই সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দেখানো হয়।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগপত্র
প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২০০৪ সালের ৩১ মে দুদকের পরিদর্শক এস এম শামীম ইকবাল বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মামলা করেন। মামলায় চৌগাছার মাশিলা গ্রামের রবিউল ইসলাম, তিলেকপুর গ্রামের লাল মিয়া, মাশিলা গ্রামের নিলুফার ইয়াসমিন, গদাধরপুর গ্রামের আবুল কালাম এবং তেঘরী গ্রামের আলতাফ হোসেনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৬ জুন তৎকালীন দুদকের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ পর্যন্ত মামলায় ছয় জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ভার্চুয়াল সাক্ষ্যের ব্যবস্থা
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় মেয়ের বাসায় অবস্থান করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী গাজী। আদালতের সমন পাওয়ার পর তিনি দুদকের বিশেষ পিপির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভার্চুয়ালি সাক্ষ্য দিতে সম্মতি জানান। শুনানিতে দুদকের পিপি ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।



