নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীর ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ক্যাশিয়ার পলাতক, গ্রেফতার ৩
নোয়াখালীতে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ

উপজেলার বসুরহাট বাজারের ‘এস বি কমিউনিকেশন’ নামের প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ইমন সাহা ওই প্রতিষ্ঠানের বিকাশ পরিবেশক। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. নুরুল হাকীম।

গ্রেফতাররা হলেন—কবিরহাট উপজেলার নূরসোনাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২৯), একই উপজেলার কালুয়া দিঘিরপাড় এলাকার শরিফ উল্যার ছেলে ইমাম হোসেন (২৪) এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নজরুল ইসলাম (২১)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্যাশিয়ারের কার্যক্রম

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন অমিত সাহা (৩৩)। তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। সম্প্রতি তার আচরণ ও কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। গত রোববার (১৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

পরে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তাকে তার বাসায় পাঠানো হলে অমিত সাহা দ্রুত অফিসে আসবেন বলে জানান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কর্মস্থলে ফেরেননি। পরবর্তীতে আবার তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাসাটি তালাবদ্ধ এবং তিনি সেখানে নেই। এতে সন্দেহ হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ক্যাশ ভল্ট ও হিসাবপত্র যাচাই করেন। এ সময় ভল্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ঘাটতি ধরা পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অর্থ আত্মসাতের কৌশল

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার তিনটি পৃথক ক্যাশ চালানে যথাক্রমে ২০ লাখ টাকা, ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা তিন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, তারা ওই অর্থ গ্রহণ করেননি। প্রতারণার মাধ্যমে অমিত সাহা অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ইমন সাহার দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ ভল্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি অর্থ উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশি ব্যবস্থা

ওসি মো. নুরুল হাকীম জানান, ঘটনার দিন রোববার ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মালিক ইমন সাহা ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার ভিত্তিতে ওই রাত ১০টার দিকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।