দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মুছিবুল হাসান রিপুর পুনরায় পদায়নে শিক্ষা অঙ্গনে সমালোচনার ঝড়
মুছিবুল হাসান রিপুর পুনরায় পদায়নে শিক্ষা অঙ্গনে সমালোচনা

দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মুছিবুল হাসান রিপুর পুনরায় পদায়নে শিক্ষা অঙ্গনে সমালোচনার ঝড়

বিতর্কিত কর্মকর্তা মো. মুছিবুল হাসান রিপুর শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে পুনরায় পদায়ন ঘিরে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, তাকে পুনরায় শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে পদায়ন করা হয়, যা শিক্ষা প্রশাসনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে বিতর্কিত পদায়নের অভিযোগ

শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে সম্প্রতি একের পর এক বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের পদায়নের অভিযোগ উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, এসব কর্মকর্তা একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে ফ্যাসিস্ট আমলে সুবিধাভোগী এবং সে সময়ের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। শিক্ষায় একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা নানা অনিয়মে জড়াচ্ছেন। এসব কাজে খুবই দক্ষ হিসাবে পরিচিত কর্মকর্তা মো. মুছিবুল হাসান রিপুকে তাই ফের এ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুছিবুল হাসান রিপুর কর্মজীবন ও অভিযোগ

মুছিবুল হাসান রিপু ২০০৮ সালে ১৩তম গ্রেডে স্টেনো কাম টাইপিস্ট হিসাবে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শাখায় উপসচিবের টাইপিস্ট হিসাবে পদায়নের মধ্য দিয়ে তার উত্থান শুরু হয়। পরবর্তীকালে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন, যা ‘১২ সিন্ডিকেট’ নামে পরিচিতি পায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০১২ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পিএসের পিও হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার প্রভাব আরও বাড়ে। প্রায় সাত বছর তিনি ওই দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মন্ত্রী ও পিএসের নাম ব্যবহার করে ঢাকাসহ সারা দেশের শিক্ষা প্রশাসনে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তিনি।

মুছিবুলের বিরুদ্ধে পদোন্নতি, বদলি ও টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার নামে তদবির-বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও উঠেছে। ২০১৯ সালে শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে ডা. দীপু মনি দায়িত্ব নেওয়ার পর মুছিবুলকে বদলি করা হলেও মাত্র সাত দিনের মধ্যে তিনি আবার আগের পদে ফিরে আসেন। এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ঘুস নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেও মুছিবুল তার অবস্থান ধরে রাখেন। পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে বদলি করা হয়। গত ১৩ এপ্রিল তাকে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে ফের পদায়ন করা হয়, যা সমালোচনার ঝড় তুলেছে।

মুছিবুল হাসান রিপুর প্রতিক্রিয়া

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুছিবুল হাসান রিপু। তিনি যুগান্তরকে বলেন, "আমাকে নিয়ম অনুযায়ী পদায়ন করা হয়েছে। আমার পদে অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়।"

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া

এই প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেককে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

শিক্ষা অঙ্গনের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদায়ন শিক্ষা প্রশাসনে দুর্নীতির সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবিত করার একটি চেষ্টা হতে পারে। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এর ফলে শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।