রাষ্ট্রপতির ভাষণে আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির অভিযোগ ও বিএনপির ইতিবাচক ভূমিকার দাবি
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালের জুন মাসে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন অবস্থায় রেখে গিয়েছিল। এই বক্তব্যে তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুর্নীতির ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।
বিএনপি সরকারের দুর্নীতি দমনের পদক্ষেপ
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তার ভাষণে আরও উল্লেখ করেছেন যে ২০০১ সালের অক্টোবরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়ে দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তিনি বলেন, এই সরকারের ইতিবাচক ‘ট্র্যাক রেকর্ড’ রয়েছে, যা দেশে দুর্নীতি কমাতে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে, ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়, যা একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। রাষ্ট্রপতির মতে, এসব উদ্যোগের ফলেই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কলঙ্ক থেকে মুক্তি পায় এবং ২০০৬ সালের অক্টোবরের আগেই দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে শুরু করে।
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান ও সরকারের অগ্রাধিকার
অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। তিনি জানান, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো পুনর্গঠনের জন্য ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এছাড়া, বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে দুর্নীতি দমন এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সামনে নিয়ে এসেছে, যা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
