কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপারকে ওষুধ পাচারে আটক
কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার আটক

কুড়িগ্রামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপারকে ওষুধ পাচারে আটক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার ফারুক আহমেদকে সরকারি ওষুধ এবং ওয়েট মেশিন পাচারের সময় পুলিশ আটক করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাস্টারকলোনী এলাকায় আবু মোতালেবের বাড়ির পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলছিল পাচারের কার্যক্রম

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুক আহমেদ প্রায় এক বছর ধরে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোর কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে মাঝেমধ্যে সরকারি বিভিন্ন ঔষধ পাচার করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি ঔষধ সহ ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এই অবহেলার ফলে তিনি বারবার পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাচারের চেষ্টা ও পুলিশের অভিযান

সোমবার (৯ মার্চ) ফারুক আহমেদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর থেকে ঔষধগুলো ভ্যান যোগে ঢাকার বাবু বাজারে আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তির নিকট পাঠানোর জন্য পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে নিয়ে যান।

এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রৌমারী থানা পুলিশ রৌমারী বাজার এলাকা থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪০ হাজার মেট্রো ট্যাবলেট এবং ১৮টি ওয়েট মেশিনসহ ফারুক আহমেদকে আটক করে।

কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপ

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সামাদ ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রজোণীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

অন্যদিকে, রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, "৪০ হাজার মেট্রো ট্যাবলেট এবং ১৮টি ওয়েট মেশিন পাচারের সময় রৌমারী বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।"

এই ঘটনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক দুর্নীতির ছাপ দেখা যাচ্ছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে একটি বড় ধরনের পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।