দীর্ঘ ২৬ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালামকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র্যাব-৩ এর সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আবুল কালাম পাকুন্দিয়া উপজেলার চরলক্ষীয়া গ্রামের মৃত শামসুদ্দীনের ছেলে। আজ সকালে তাকে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাস যাবত পলাতক আসামি আবুল কালামের গতিবিধি লক্ষ্য করছিল পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকায় তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে ঢাকার শাহজাহানপুরে অবস্থিত র্যাব-৩ এর সহযোগীতায় পাকুন্দিয়া থানার এএসআই সঞ্জয় কুমার দাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওসি বলেন, ২৬ বছর ধরে পলাতক থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এটিকে পাকুন্দিয়া থানার পুলিশের বড় অর্জন বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলার চরলক্ষীয়া গ্রামের আবুল কালামের সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল (১৪) এর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কালাম সোহেলকে গলায় ছুড়িকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই সোহেলের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই কালাম পলাতক ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আজিজুল হক জজ মিয়া বাদী হয়ে কালামকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০১০ সালে কালামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ র্যাবের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।



