দুদকের মানিলন্ডারিং মামলায় পলকের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে একদিনের জন্য জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন।
দুদকের আবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্ত
দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক আল-আমিন মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কারান্তরীণ আসামি পলককে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। আদালত এই আবেদন বিবেচনা করে পলকের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন, যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজহারে বলা হয়, অভিযুক্ত জুনাইদ আহমেদ পলক অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আট কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। একইসঙ্গে নিজ নামে ২৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩২ কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটন করেছেন।
আদালতের নির্দেশনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালতের এই আদেশের ফলে পলককে কারাগারের গেটে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, যা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা পাওয়া যাবে এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
এদিকে, পলকের আইনজীবীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা প্রতিবাদ জানাননি বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত তারিখে আরও বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হতে পারে।



