রাজধানীর কদমতলী থানা এলাকায় ফাঁকা গুলি ছুড়ে ১৯ লাখ টাকা লুট এবং কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে একজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আসাদুজ্জামান সাব্বির মিয়া নামের ওই ব্যক্তি পেশায় প্রকৌশলী। তিনি ঢাকা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) জয়নুল আবেদীনের ভাগনে।
আদালতের আদেশ
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসাদুজ্জামানের জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে এই মামলায় রবু মিয়া নামের আরেক আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারের ঘটনা
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নতুন জুরাইনের আলমবাগ এলাকা থেকে আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১০। তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই জহিরুল ইসলাম।
আইনজীবীর বক্তব্য
এদিন আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, এ আসামি নির্দোষ, নিরপরাধ। হয়রানি করার জন্য তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেয় করতেই ফাঁসানো হয়েছে। জামিন দিলে আসামি পলাতক হবে না।
বাদীপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে রবু মিয়া নামের আরেক আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তাঁর পক্ষে খান মো. ইব্রাহিম জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
মামলার বিবরণ
মামলায় বলা হয়, ৬ মে বিকেলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. হাসানসহ কয়েকজন প্রাইভেট কারে যাচ্ছিলেন। কদমতলী থানা এলাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের পথরোধ করেন। তাঁরা দেশি ধারালো অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র ও সুইচ গিয়ার (ছুরি) নিয়ে হামলা চালান এবং পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের গাড়ি থেকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, হামলায় মো. হাসান, রনি, মোতালেব ও নয়নসহ পাঁচ থেকে সাতজন আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা গাড়িতে থাকা ব্যবসায়ী হাসানের ১৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাসান ৭ মে কদমতলী থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।
এমপির বক্তব্য
এ বিষয়ে ঢাকা–৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আমার ভাগনে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে সে এখানে আসে। তখনই সে একটি পক্ষের টার্গেটে (নিশানায়) পরিণত হয়। যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেই ঘটনায় ঘটনাস্থলেও সে উপস্থিত ছিল না। এই মামলার বাদী ও ১ নম্বর আসামির মধ্যে দ্বন্দ্বের পচা রাজনীতির শিকার আমার ভাগনে।’



