শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিসে এজলাস কক্ষে দলিল করতে প্রকাশ্যে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘুস আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন অফিসের পিয়ন মো. মবিনুল হক। ছোট দলিলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বড় দলিলে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ঘুস আদায় করা হয়।
ঘুস আদায়ের পদ্ধতি
সরেজমিনে দেখা যায়, পিয়ন মো. মবিনুল হক এজলাস কক্ষে প্রকাশ্যে দলিলে টিপসই দিতে ৫০০ টাকা নিচ্ছেন। ছোট-বড় কয়েকটি দলিলে টিপসই দিতে তিনি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা নিচ্ছেন। প্রতি সপ্তাহে তিনি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুস আদায় করছেন, যা মাসে প্রায় ২ লাখ টাকা দাঁড়ায়। এই টাকা পিয়ন থেকে শুরু করে অফিসের সব কর্মকর্তার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। এছাড়া দলিলে ত্রুটি থাকলেও মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়।
পূর্বের অভিযোগ
এই অফিসের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস আগে জাল দলিল করার অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে।
সাবরেজিস্ট্রারের দায়িত্ব
সাবরেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাবরেজিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান পাশাপাশি শরীয়তপুর সদর উপজেলার সাবরেজিস্টার অফিসের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ভেদরগঞ্জে সোমবার, সখিপুরে রোববার এবং বাকি তিন দিন শরীয়তপুর সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন।
দলিল দাতার অভিযোগ
দলিল দাতা রাজার আলী বলেন, "আমাদের কাছে ৫০০ টাকা নিয়েছে। এখানে টিপ দিতে সবসময় টাকা নেয়। কেউ টাকা না দিলে করতে পারে না তারা।"
পিয়নের বক্তব্য
পিয়ন মো. মবিনুল হক বলেন, "আমি একটি দলিলের নকলের টাকা নিচ্ছিলাম। কোনো ঘুস নেইনি। এখন আমি কয়েক দিন ধরে দায়িত্ব পালন করছি না। আমাকে শোকজ করেছে। ভাই আসলে সত্যি বলতে কী, পানি সব সময় নিচের দিকে গড়ায়। আচ্ছা আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেন, ভাই প্লিজ। নিউজ কইরেন না।"
উপজেলা রেজিস্ট্রারের বক্তব্য
ভেদরগঞ্জ উপজেলা রেজিস্ট্রার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "আমার এখানে দলিল করতে কোনো ঘুস লাগে না এবং পিয়নের ঘুস নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। তবে সেদিন জানতে পেরে জেলা স্যারকে জানিয়েছি। পরে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
জেলা রেজিস্ট্রারের ব্যবস্থা
শরীয়তপুর জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন বলেন, "মো. মবিনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে পেরে আমি তাকে লিখিতভাবে শোকজ করেছি। তিনি এখনো জবাব দেননি। আর সাব রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।"



