দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজির আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এর মাধ্যমে এই নথি পাঠানো হয়েছে। বেনজির আহমেদ সম্প্রতি ইউএইতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
নথিতে কী কী রয়েছে?
দুদকের কাছে থাকা মামলার নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে বেনজিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, আদালতের আদেশ এবং তদন্ত সংক্রান্ত কাগজপত্র। দুদকের মুখপাত্র আখতারুল ইসলাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
“সেখান থেকে সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে,” তিনি বলেন।
এনসিবি কর্মকর্তাদের ভূমিকা
কর্মকর্তারা জানান, গত দুই দিন ধরে দুদকের সঙ্গে এনসিবির দুই কর্মকর্তা কাজ করছেন বেনজিরকে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে। তারা চলমান মামলা, আদালতের আদেশ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য ডকুমেন্টেশন পর্যালোচনা করেছেন।
এফআইআর, আদালতের আদেশ, প্রযোজ্য আইন, তদন্ত ফাইল, পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের রেকর্ড এবং পরিচয় যাচাইকরণ কাগজপত্রসহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি প্রস্তুত করা হয়েছে। ইউএই কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন অনুযায়ী ইংরেজি ও আরবি ভাষায় অনুবাদও সংযুক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি
রোববার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বেনজির ১২ জুন ইউএইতে গ্রেপ্তার হন। আবুধাবি এনসিবির একটি চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ইউএই ফেডারেল আইন নং ৩৯ এর ১১ ধারা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অনুরোধে অবশ্যই অভিযুক্তের পরিচয় ও ছবি, জাতীয়তা, ঠিকানা, প্রাসঙ্গিক আইন, শাস্তির বিবরণ, আদালত কর্তৃক জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং তদন্ত নথি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এগুলো আরবিতে অনুবাদ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলমোহর দিতে হবে।



