বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ৮ জুলাই সন্ধ্যায় আগৈলঝাড়া থানা-পুলিশ চুরির মামলার আসামি রিয়াজ ফকিরকে (২৬) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। রিয়াজ মাদকাসক্ত ছিলেন। থানাহাজতে থাকাকালে তিনি নিজের মাথায় আঘাত করে জখম হন। পরে তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরদিন ৯ জুলাই দুপুরে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে একদল লোক আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করা হয়।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিক্রিয়া
সংগঠনটি এ ঘটনাকে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নব্য ‘মব সংস্কৃতির’ বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচারপ্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি এবং প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
আহতের সংখ্যা ও গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ১৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সবার প্রতি আহ্বান
সংগঠনটি দেশের সব নাগরিককে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ও সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।



