গাজীপুর মহানগর ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল শিকদার অমির চাঁদাবাজির একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রোহানুজ্জামান শুক্কুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার রাতে রাতুল শিকদারকে বহিষ্কার করা হয়।
ফাঁস হওয়া ফোনালাপে তাকে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করতে এবং অকথ্য ভাষায় হুমকি দিতে শোনা গেছে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া অডিওতে রাতুল শিকদার বলেন, 'আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন এক হাজার টাকা, আরেক দিন দিয়েছেন পাঁচশ টাকা। আজকা ভাই দুই-তিন হাজার টাকা দিয়েন। আপনি টাকাটা পাঠাইবেন নাকি, বুঝলাম না। ৮ হাজার টাকাই তো বুঝলাম না ভাই। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না। আপনি টাইম দিয়েছেন পাঁচটা সাড়ে-পাঁচটা। সাড়ে পাঁচটার পর কয়ডা ফোন দিলাম, ফোন ধরেন নাই বা ব্যাকও করলেন না। আমারে বুঝান ফোন ধরেন নাই কেন?'
তিনি আরও বলেন, 'আপনার এত বড় ক্ষমতা, ফোন ধরেন দেহি। ফোন ধরেন না, আবার আরেকজনের নাম ভাঙ্গান মিয়া। এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের নাম বেচেন মিয়া। আপনি সুমন লস্কররে কইয়েন পাপ্পু সরকার না, তারেক রহমানের নাম কইলেও কাজ হইব না। বুঝেন নাই, এইডা আমার বাড়ির রোড। এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না, বুঝেন নাই।'
এ বিষয়ে জানতে রাতুল শিকদার অমির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিক বার কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রোহানুজ্জামান শুক্কুর জানান, 'ওই অডিও রেকর্ডটি আমি শুনেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।'
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ফাঁস হওয়া অডিওতে রাতুল শিকদারকে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করতে শোনা গেছে। তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, 'আপনি কই আছেন কন, আপনার সঙ্গে দেখা করি। আপনি কত বড় হয়ে গেছেন দেখি।' এই ঘটনায় ছাত্রদল দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং তাকে বহিষ্কার করে।
ছাত্রদলের অবস্থান
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রোহানুজ্জামান শুক্কুর জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে এই বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাঁদাবাজি ও হুমকির মতো ঘটনা মেনে নিতে পারি না। দল থেকে এরকম কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করা হয় না।'
প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। অনেকেই ছাত্রদলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে রাতুল শিকদার অমির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



