পরাজয় অস্বীকার করে মমতার জেদি বক্তব্য
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বড় বিপর্যয়ের পরদিন এক আক্রমণাত্মক ও জেদি সুর দেখা গেলো বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। নির্বাচনে তার দল ‘পরাজিত’ হয়নি দাবি করে মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন তিনি পদত্যাগ করবেন?
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা হারিনি। আমি পদত্যাগ করব না। আমার রাজভবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’ এসময় সংবাদ সম্মেলনে তার পাশে ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
হস্তক্ষেপের অভিযোগ ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন
এখনও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ না করা মমতা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ‘হস্তক্ষেপ’ করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য ‘আলোচনা’ প্রয়োজন এবং তার দল এই নির্বাচনের বিষয়ে সত্য অনুসন্ধানে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গঠন করবে।
টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় থাকা মমতা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে এই নির্বাচনের ‘ভিলেন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ইভিএম লুট করার জন্য সিইসি এই নির্বাচনের ভিলেনে পরিণত হয়েছেন। আপনারা কি আমাকে বলতে পারেন, ভোট দেওয়ার পর ইভিএমে কীভাবে ৮০-৯০ শতাংশ চার্জ থাকে? এটা কীভাবে সম্ভব? নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকে তারা আমাদের লোকজনকে গ্রেফতার করা শুরু করেছিল। তারা সব জায়গায় অভিযান চালিয়েছে।’
বিজেপির সরকার গঠনের প্রস্তুতি
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে সহ-পর্যপেক্ষক হিসেবে থাকবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী ৯ মে নোবেল বিজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর দিন নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণ করবে।



