সাবিরা সুলতানা: সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হওয়ার পর সাবিরা সুলতানা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন। যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে তিনি জামায়াতের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের কাছে ৩৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এবার দলীয় মনোনয়নের মাধ্যমে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।
নির্বাচনী পরাজয় ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ
নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাবিরা সুলতানা দাবি করেন, দলের মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কাজ না করার কারণে তিনি হেরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় নেতৃত্বের একটি অংশ জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে আঁতাত করে তাঁকে পরাজিত করেছে। এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাবিরা সুলতানার অভিযোগের প্রতিবাদ জানান। এই পারস্পরিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সাবিরা সুলতানা ও স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্বের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়, যা অভ্যন্তরীণ বিরোধকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।
মনোনয়ন প্রাপ্তি ও দলীয় প্রতিক্রিয়া
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার পর সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘সরাসরি নির্বাচনে আমার পরাজয়ের পেছনে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভূমিকা রয়েছে কিনা, সে তথ্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আছে। দল আমাকে ত্যাগী হিসেবে মূল্যায়ন করেছে এবং আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ।’
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অত্যন্ত প্রকট। এই কোন্দল নিরসন করা এখন সাবিরা সুলতানার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবিরা সুলতানার ঐক্যের আহ্বান
এ বিষয়ে সাবিরা সুলতানা বলেন, ‘বিএনপি একটি দল এবং এখানে নেতা-কর্মীদের মধ্যে পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। আমি ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।’ তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
সাবিরা সুলতানার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পটভূমি
সাবিরা সুলতানা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং প্রয়াত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী। নাজমুল ইসলাম যশোর জেলা বিএনপির সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে অপহৃত হন এবং পরদিন গাজীপুরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পর সাবিরা সুলতানা রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০১৪ সালে তিনি ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাজমুল-সাবিরা দম্পতির তিন ছেলে রয়েছে: বড় ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে, মেজ ছেলে লন্ডনে বার অ্যাট ল পড়ছেন এবং ছোট ছেলে ঢাকায় পড়াশোনা করছেন।
বিএনপির সংরক্ষিত আসনের তালিকা
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকায় সাবেক ১০ জন, সংখ্যালঘু ৪ জন এবং ভোটে হেরে যাওয়া ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। সাবিরা সুলতানা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।



