রাশেদা বেগম হীরা তৃতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ও দলটির উপদেষ্টা রাশেদা বেগম হীরা তৃতীয়বারের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত খবরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিক্ষা ও রাজনৈতিক পটভূমি
রাশেদা বেগম হীরার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামে। তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ডিগ্রি এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ছাত্রনেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা
ছাত্রনেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে নেপাল ভ্রমণ করেন। টেলেন্ট স্টুডেন্ট হিসেবে তিনি হিজবুল বাহার সফর ও বঙ্গভবনে আমন্ত্রিত হন। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় জেন্ডার বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ভিএসও উল্লেখযোগ্য।
রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা
১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিএনপির সব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদে দলের মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাশেদা বেগম হীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চাঁদপুর জেলা শাখার সভানেত্রী ছিলেন।
গ্রেফতার ও আইনি ইস্যু
পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির কালো পতাকা কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় আসামি দেখানো হয়। ওই মামলায় ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন জানালে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও কৃতজ্ঞতা
রাশেদা বেগম হীরার স্বামী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা মরহুম মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার। মনোনয়ন প্রাপ্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চাঁদপুর-১ আসনের এমপি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, চাঁদপুর-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং চাঁদপুর-৫ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
রাশেদা বেগম হীরার এই মনোনয়ন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে চাঁদপুরের প্রতিনিধিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



