লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিন উল্লাহ একটানা ২০ বছর দায়িত্ব পালনের পর আজ সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তার বর্তমান থাকার ঘরটি বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে তৈরি, যা বৃষ্টির সময় পানি দিয়ে ভিজে যায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে, ফলে পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটে তার।
পারিবারিক বিরোধ ও মামলার জেরে নিঃস্ব
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আপন ভাইয়ের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘ বছর ধরে ২২টি মামলা লড়তে হয়েছে মমিন উল্লাহকে। এসব মামলার খরচ চালাতে গিয়ে তিনি অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন। এর ওপর ২০২০ সালের একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা চলাকালে পরপর দুইবার স্ট্রোকের শিকার হয়ে তিনি সম্পূর্ণ পঙ্গু ও অসহায় হয়ে পড়েন। মামলার খরচ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে শেষ সম্বলটুকুও।
বর্তমান জীবনযাপন ও আশ্রয়ের সংকট
সরেজমিন দেখা যায়, মমিন উল্লাহর বর্তমান থাকার ঘরটি বাঁশ আর পলিথিন দিয়ে কোনোমতে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির দিনে এই ঘরে থাকা তো দূরের কথা, বসার মতো পরিবেশও নেই। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঘরটিতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ায় বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে প্রতিবেশী একজনের ঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
হুইপের হস্তক্ষেপ কামনা
এমতাবস্থায় সাবেক এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের এমন অবর্ণনীয় কষ্টের দিনে তার পরিবার লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অসহায় প্রবীণ এই নেতা মমিন উল্লাহ কান্নাজড়িত কণ্ঠে যুগান্তরকে বলেন, 'জীবনের সোনালি সময়গুলো রাজনীতির পেছনে দিয়েছি। আজ আমি নিঃস্ব, পঙ্গু। আমি বাঁচতে চাই, পরিবার নিয়ে একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই চাই। মাননীয় হুইপ মহোদয়ের কাছে আমার আকুল আকুতি, তিনি যেন আমাকে একটি থাকার ঘর করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।'
স্থানীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলমত নির্বিশেষে এই অসহায় প্রবীণ রাজনীতিবিদের সাহায্যে হুইপ, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবানদের দ্রুত এগিয়ে আসা উচিত। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, 'মমিন উল্লাহ আমাদের দলের একজন অত্যন্ত পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। জীবনের দীর্ঘ ২০টি বছর তিনি ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন। দলের কঠিন সময়ে ও আন্দোলন-সংগ্রামে তার অবদান অনস্বীকার্য। আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত এবং পরিবার নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন, যা সত্যিই অত্যন্ত বেদনাদায়ক।'
তিনি আরও বলেন, 'একজন প্রবীণ ও আদর্শিক নেতার এই দুর্দিনে আমরা তার পাশে আছি। দলীয় ফোরামে তার সার্বিক সহায়তার বিষয়ে আমরা দ্রুত আলোচনা করব। একই সঙ্গে, মানবিক দিক বিবেচনা করে তার এই অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে এবং তাকে একটি স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে আমি আমাদের অভিভাবক, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানের সুদৃষ্টি এবং জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।'



