জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি। বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মাহদি মোলারস এবং মিডিয়া ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক।
অভিনন্দন ও শোকপ্রকাশ
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য এবং ডা. শফিকুর রহমানের বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার বিষয়ে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ইরানি নাগরিকদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি যুদ্ধের কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন।
শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরানের ভূমিকা
বৈঠকে যুদ্ধবিরতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে শান্তি চুক্তিতে অংশ নেওয়ার জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংলাপ এগিয়ে নিতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, এই শান্তি প্রক্রিয়া কার্যকর থাকবে এবং ভবিষ্যতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে ইরান ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখযোগ্য আলোচিত বিষয়
- বাংলাদেশ-ইরান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন
- তেহরান-ঢাকা সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু
- মেডিকেল ট্যুরিজম সম্প্রসারণ
- বাংলাদেশে ইরান সরকারের সহযোগিতায় একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
ভবিষ্যৎ সম্পর্ক জোরদার
ইরানের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে তেহরানের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইরান সরকারের সদিচ্ছার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।



