সংসদকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখার আহ্বান এনসিপি নেতার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংসদকে ফ্যাসিবাদ ও তার দোসরদের হাত থেকে মুক্ত রাখার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সংসদ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তাই এটিকে কলুষিত হতে দেওয়া যাবে না। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণহত্যার বিচার ও নতুন বন্দোবস্তের দাবি
নাহিদ ইসলাম জুলাই গণহত্যার বিচার এবং বিগত সরকারের আমলে হওয়া গুম ও খুনের কঠোর বিচার করার দাবি জানান। তিনি বলেন, জুলাই মানেই নতুন বন্দোবস্ত, জুলাই মানেই নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তথা ’৩৬ জুলাইয়ের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, সেদিন শাহবাগ থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল নিয়ে সংসদ প্রাঙ্গণে এসে এ ভবনকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আজ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে এখানে কথা বলতে পারাটা মহান আল্লাহর অশেষ রহমত। দশম শ্রেণির ছাত্র শহীদ আনাসের চিঠির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভীত হয়ে ঘরে বসে থাকার চেয়ে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ। এই তরুণদের আত্মত্যাগই আজকের স্বাধীনতার ভিত্তি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের অবদানকারীদের স্মরণ
নাহিদ ইসলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, আলেম সমাজ, নারী সমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং শহীদ হওয়া প্রায় ১৫০ শিশুর আত্মত্যাগের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, ২০২৪-এর অভ্যুত্থান বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তিনি ১৯৪৭-এর আজাদির লড়াই, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতাকে একসূত্রে গেঁথেছেন। শহীদ আবরার ফাহাদ ও ফেলানি খাতুনকে স্মরণ করে তিনি বলেন, তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।
সংবিধান সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বন্দোবস্ত
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রে জনতার রায়ই সার্বভৌম। তিনি বলেন, আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন নতুন বন্দোবস্ত চাই।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ তরুণ সমাজকে গণ-অভ্যুত্থানে উদ্বুদ্ধ করেছিল। স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এই মহান সংসদ শহীদদের রক্ত মাড়ানো পবিত্র স্থান। তাই কোনও ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর যাতে এখানে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
