জোরপূর্বক আলিঙ্গন: কেরালায় কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে বিতর্ক
জোরপূর্বক আলিঙ্গন: কেরালায় কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে বিতর্ক

কেরালার তিরুবনন্তপুরমে কংগ্রেসের রাজ্য সদর দফতরে এক অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। নবনির্বাচিত বিধায়ক বিন্দু কৃষ্ণকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক আলিঙ্গন করার চেষ্টা করেছেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা চেরিয়ান ফিলিপ। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কংগ্রেস এবং চেরিয়ান ফিলিপের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঘটনার বিবরণ

কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সদর দফতরে এক সংসদীয় দলের বৈঠক চলাকালীন সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের সামনেই এই ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী কোল্লামের বিধায়ক বিন্দু কৃষ্ণ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে দলীয় কার্যালয়ের প্রবেশপথের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। শাড়ি পরিহিত বিন্দু কৃষ্ণ প্রথমে এক দলীয় কর্মীর সঙ্গে করমর্দন করেন। এরপরই ৭১ বছর বয়সী চেরিয়ান ফিলিপ তার দিকে এগিয়ে আসেন।

বিন্দু কৃষ্ণ করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেও ফিলিপ তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। তিনি বিধায়কের ঘাড়ের ওপর হাত রেখে তার বাড়িয়ে দেওয়া হাতটি নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিন্দু কৃষ্ণকে এ সময় দৃশ্যত অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় এবং তিনি ফিলিপকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পিছিয়ে যান। এরপরও ফিলিপ দ্বিতীয়বার তাকে আলিঙ্গনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত বিন্দু কৃষ্ণ হাত জোড় করে নমস্কার জানিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার সময় উপস্থিত বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও দলীয় কর্মীকে হাসতে দেখা গেছে। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদাভাবে সমালোচিত হচ্ছে। নেটিজেনদের মতে, প্রকাশ্য স্থানে একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘনের ঘটনায় এমন প্রতিক্রিয়া দুঃখজনক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই চেরিয়ান ফিলিপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “তিনি একজন বিধায়ক! আর এই ‘শকুন’টি তাকে উত্যক্ত করার এবং আলিঙ্গন ও চুম্বনের চেষ্টা করছে।” অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, একজন নারী যখন স্পষ্টভাবে পিছিয়ে যাচ্ছেন এবং কাউকে সরিয়ে দিচ্ছেন, তখন সেটিকে সঙ্গে সঙ্গে সম্মান করা উচিত। জনজীবন বা রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা কখনোই অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শের অজুহাত হতে পারে না।’ অনেকে এই আচরণকে ‘নির্লজ্জ’ আখ্যা দিয়ে প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিক্রিয়ার অভাব

তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চেরিয়ান ফিলিপ বা বিন্দু কৃষ্ণের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। কেরালা কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে