এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, পাবনায় জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের বিচার নিয়ে প্রহসন করা হচ্ছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খান এখনো গ্রেফতার হয়নি এবং তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আবু সাইদ একটি সন্ত্রাসী দলের কয়েক নেতার আশ্রয়ে রয়েছেন। সারজিস আলম বলেন, বিএনপি যদি জালিমদের আশ্রয়দাতা হয়ে ওঠে, তাহলে বিএনপির অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।
পাবনায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য
পাবনা শহরের শহীদ চত্বরে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, 'আমরা মনে করি বিএনপি আমাদের জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা। তারাও ১৭ বছরে জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাই আমরা তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব— আপনারা যদি শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেন, তাহলে এর প্রত্যেকটার প্রতিদান এই বাংলার মাটিতে দেওয়া হবে।'
পুলিশ প্রহরায় জুমার নামাজ ও কবর জিয়ারত
পাবনায় পুলিশ প্রহরায় জুমার নামাজ আদায় করেন সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এছাড়াও নেতারা পাবনায় পুলিশ প্রহরায় দুই জুলাই শহীদের কবর জিয়ারত ও শহরের শহীদ চত্বরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন। পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ এবং রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন চাটমোহরে সমাবেশে যোগ দেন।
চাটমোহর থেকে পাবনা সফর
চাটমোহরের কর্মসূচি শেষে তারা পাবনা সার্কিট হাউসে রাতযাপন করেন। পরে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে তারা পাবনার কেন্দ্রীয় আরিফপুর গোরস্থানে জুলাই শহীদ মাহবুব হাসান নিলয় এবং জাহিদুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষ করে নেতারা শহরের কেন্দ্রীয় চাঁপা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এ সময় মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণের দুটি গেটেই পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম ও সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ প্রহরা বসানো হয়। মসজিদের আশপাশেও কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পুলিশ।
শহীদ চত্বরে বক্তব্য
জুমার নামাজ শেষে নেতারা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে শহীদ চত্বরে মুসল্লিসহ পথচারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। পুলিশ সূত্র জানায়, পাবনায় এনসিপি নেতাদের এসব কর্মসূচিতে পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তার জন্য ৫০ জন পুলিশ নিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য ২০ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া চাঁপা মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ে নিরাপত্তার জন্য ৩০ জন, গোরস্থানে কবর জিয়ারত ও শহীদ চত্বরে ৩০ জন করে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। পাবনা সার্কিট হাউসে নেতারা যেখানে রাতযাপন ও অবস্থান করেন সেখানেও পুলিশের কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম পুলিশ প্রহরার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'যাতে কোনো অঘটন বা অসুবিধা না হয় সেজন্য এনসিপি নেতাদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ নিযুক্ত করা হয়েছিল।'
শহীদ চত্বরের পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শহরের ট্রাফিক মোড়ে গুলিতে স্কুলছাত্র নিলয় ও পলিটেকনিক শিক্ষার্থী জাহিদুল নিহত হন। এ ঘটনার পর ওই ট্রাফিক মোড়কে শহীদ চত্বর নাম দিয়ে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়।



