রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার দায়রাপাক এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে মামুন আলী (৩০) মঙ্গলবার বিকালে প্রতিবেশীর গাছে ডাব পাড়তে উঠে পা পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্ত এড়াতে টাকা দাবির অভিযোগ
নিহত মামুনের স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের আবেদন করেন আরএমপির চন্দ্রিমা থানায়। আবেদন পেয়ে ওসি দুই কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে এসআই নাসির উদ্দিনকে হাসপাতাল মর্গে পাঠান। নিহতের বাবা সেকান্দার আলী অভিযোগ করেন, তিনি মর্গের সামনে লাশ গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় এসআই নাসির উদ্দিন এসে বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিতে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যথায় ময়নাতদন্ত করা হবে। ওসির নাম করেই টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
মর্গের সামনে তুলকালাম
বুধবার সকালে এ নিয়ে মর্গের সামনে উত্তেজনা দেখা দেয়। মৃতের স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে মামুনের বাবা জানিয়ে দেন, ময়নাতদন্ত করা হলে তিনি লাশ গ্রহণ করবেন না। স্বজনরা জানান, ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত হওয়ায় তারা অভিযোগ করতে চাননি। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন দেন। কিন্তু এরপর ওসির নাম করে এসআই ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।
পুলিশের বক্তব্য
এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, টাকা দাবির অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। থানায় অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছিল, তাই লাশ হস্তান্তরে দেরি হয়। ওসি মনিরুল ইসলামও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আইনগত জটিলতা এড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ময়নাতদন্তের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছিল। পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ
বিষয়টি আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে তারা মামুনের স্বজনদের ডেকে দুপুরের পর লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করেন। আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



