জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমি গেঞ্জি পরে আপনাদের সামনে আসার মানে হচ্ছে আমি আপনাদের মেহমান না, আজকে থেকে আমিও বাঁশখালীর একজন মানুষ। আপনারা রাজি আছেন? বাঁশখালী এলাকার নাগরিকত্ব দেবেন আমারে? আলহামদুলিল্লাহ্, ধন্যবাদ।
বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন
শুক্রবার (১০ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আসলে এটা আমাদের দুঃখ, দেশ স্বাধীনের আজকে হয়ে গেছে পঞ্চাশ বছরের ঊর্ধ্বে, ৫৫ বছর। একটু বৃষ্টি নামলে আমাদের ঘর-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে, আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। মাছের ঘের, পুকুর সব ভেসে যায়; খেতের ফসল নষ্ট হয়। একেকটা বন্যা বাংলাদেশের একেকটা দুঃখ। আর কিছু এলাকায় প্রায় প্রতিবছর এটা লেগে আছে, এর কোনো সমাধান নাই। কেন থাকবে না? সমস্যা যেখানে, সমাধানও আছে সেখানে।
সরকারের সমালোচনা
তিনি বলেন, যদি সত্যিকার অর্থে দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিক কোনো সরকার দেশ চালায়, তাহলে কোনো সমস্যাই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা নয়। কিন্ত আমাদের তো বছরের পর বছর লেগেই আছে। তার মানে হলো, যারা দেশ পরিচালনায় গিয়েছিলেন তারা জনগণের কথা চিন্তা না করে নিজেদের কথা চিন্তা করেছেন। জনগণের সম্পদ চুরি করেছে ওরা, লুণ্ঠন করেছে ওরা। দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে ওরা। এরা দেশের দুশমন, জাতির দুশমন।
এ সময় তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড় ধসে ও পানিতে ভেসে গিয়ে নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দেন তিনি।
ত্রাণ বিতরণ
এর আগে, শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি সরাসরি বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর ইউনিয়নে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় যান। সেখানে পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে নেমে পড়েন ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্দশার কথা শোনেন। এ সময় প্রত্যেক র্দুগত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন।
সাতকানিয়ায় পরিদর্শন
চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। এই উপজেলার অধিকাংশ মাঠ ঘাট ও বাড়ি ঘর গতকাল পানির তলে ছিল। জামায়াতের আমির সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এখানে তিনি ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ টাকা দেন।



