যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ (এআরটি)’ চুক্তিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই সংসদে এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
সংসদে প্রশ্নোত্তর
বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের নবম দিনে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রশ্নোত্তরটি সংসদে টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এ কে এম ফজলুল হক মিলন তার প্রশ্নে জানতে চান নতুন রপ্তানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে কিনা।
জবাবে মন্ত্রী জানান, নতুন রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্মেলন আয়োজনের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এআরটি চুক্তির সুবিধা
খলিলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে। তার মতে, এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
বিতর্ক ও উদ্বেগ
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ এই চুক্তিকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এতে বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, জ্বালানি পণ্য, সয়াবিন, গম, উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ১৩১টি শর্ত পালনের বিষয়ও রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এতে রাজস্ব ক্ষতি ও নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকতে পারে বলেও মত দিয়েছেন তারা।



