চট্টগ্রামে মা-মেয়ে খুন: চুক্তিপত্র চুরি করতে গিয়ে ছুরিকাঘাত আ.লীগ নেতার
মা-মেয়ে খুন: চুক্তিপত্র চুরি করতে গিয়ে ছুরিকাঘাত আ.লীগ নেতার

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য একদিনের মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে রোববার রাতে পটিয়া থেকে ঘাতক তেজপ্রিয় বড়ুয়া ওরফে রিমন বড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আর্থিক লেনদেনের চুক্তিপত্র চুরি করতে গিয়েই মা-মেয়েকে ছুরিকাঘাত করেন প্রতিবেশী তেজপ্রিয় বড়ুয়া ওরফে রিমন বড়ুয়া। গ্রেফতার রিমন বড়ুয়া আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকার বেশান্ত বড়ুয়ার ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

সোমবার দুপুরে নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে একমাত্র তেজপ্রিয় বড়ুয়া নিজেই জড়িত বলে স্বীকার করেছে। তার সঙ্গে সুজন বড়ুয়ার টাকার লেনদেন ছিল। অটোরিকশা কেনার জন্য সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ধার নেয়। শর্ত ছিল- প্রতি মাসে সুদসহ কিস্তি আকারে টাকা পরিশোধ করবে। এটার জন্য একটা লিখিত স্ট্যাম্প ছিল, যে স্ট্যাম্প সংরক্ষিত ছিল সুজন বড়ুয়ার কাছে। এই স্ট্যাম্পের কারণে মাসে মাসে টাকা পরিশোধ করত। তবে রেগুলার দিতে পারত না। এ কারণে অন্তঃকলহ দেখা দেয় এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ঋণের চুক্তিপত্র নেওয়ার জন্য সুজন বড়ুয়ার বাড়ির পেছনের দিকে সেখানে একটা দরজা আছে- সেখানে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেজপ্রিয় অবস্থান করতে থাকে। রাত পৌনে ১১টার দিকে দরজা খুলে এনি বড়ুয়া বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় তাৎক্ষণিক তাকে ধরে ফেলে তেজপ্রিয়। তখন এনি চিৎকার করলে তাকে এলোপাথাড়ি চাকু মারে। এনির চিৎকার শুনে তার মেয়ে প্রিয়ন্তী দৌড়ে গেলে তাকেও চাকু মারে। পরে ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সুজনের বাড়ির পেছনে ঝোপঝাড়ে চাকুটি ফেলে দেয় তেজপ্রিয়। পরে পুলিশ চাকুটি উদ্ধার করে। এরপর রোববার রাতে পটিয়া থেকে তেজপ্রিয়কে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি মাসুদ আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, সুজন বড়ুয়ার কাছ থেকে নেওয়া টাকা সুদে-আসলে মাসে মাসে ফেরত দেওয়ার কথা। এই টাকাটা না দেওয়ার জন্য এ ঘটনা ঘটায়। তেজপ্রিয় বলেছেন, ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল; খুন করার উদ্দেশ্য ছিল না। এনি তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করায় সে ছুরি মারে। সুজন বড়ুয়ার পাঁচ বছর বয়সি ছোট সন্তানটি ঘটনার সময় যখন সেখানে যায়, তখন ধস্তাধস্তিতে আঘাত পায় বলে জানিয়েছে তেজপ্রিয়। ওই শিশুকে সে আঘাত করেনি বলে দাবি করেছে।

এদিকে স্ত্রী ও মেয়েকে খুনের ঘটনায় সুজন বড়ুয়া বাদী হয়ে রোববার রাতে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় তেজপ্রিয়কে গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।