কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টার্গেট: তিন দলের বিরোধে গোলযোগ সৃষ্টি
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টার্গেট: তিন দলের বিরোধে গোলযোগ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বর্তমানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে দেশে গোলযোগ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে। দলটির মূল লক্ষ্য হলো দেশে যদি সংঘাত বা গোলযোগ সৃষ্টি হয়, তাহলে সেই সুযোগে তারা দেশে ফিরে এসে রাজনীতির মাঠ দখল করে নিতে পারবে।

নিষিদ্ধ দলের বর্তমান অবস্থা

রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ বর্তমানে মাঠের রাজনীতিতে পুরোপুরি কোণঠাসা। তবে দলটির একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন চোরাগুপ্তা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যবর্তী বিরোধকে আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায়ই দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করতে দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও তারা বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার মতো সাহসও দেখাচ্ছে।

ঝটিকা মিছিলের উদাহরণ

  • কয়েকদিন আগে নোয়াখালীতে বড় একটি ঝটিকা মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ।
  • ৭ জুন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে।
  • একই সময়ে ঝিনাইদহ ও ময়মনসিংহের ভালুকায় ঝটিকা মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
  • ৩ জুন গোপালগঞ্জ ও পটুয়াখালীতে এবং ৬ জুন চট্টগ্রামে তাদের মিছিল করার খবর পাওয়া যায়।

তিন দলের মধ্যে বৈরিতা

বর্তমানে দেশে আধিপত্য বিস্তারসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে বৈরিতা দেখা যাচ্ছে। আর তিনটি দলের এই বিরোধ বা অনৈক্যের সুযোগ নিতে চাইছে রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়া দল আওয়ামী লীগ। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর নির্বাচন থেকে বাইরে এবং সাংগঠনিকভাবে এলোমেলো অবস্থায় থাকলেও দলটি একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও চেষ্টা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও নেপথ্যে থেকে নানা ইস্যুকে উসকে দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়েছে। নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এরপর দলটির প্রত্যাশা ছিল যে কোনোভাবে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। কিন্তু অধ্যাদেশ জারি করে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি দলটি। নির্বাচনের পর দলটির প্রত্যাশা ছিল, ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার অন্তত তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে পাশ করে আইনে পরিণত করায় রাজনীতিতে ফেরার আশা দলটির আরও কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলামের মতে, জুলাই মুভমেন্টে যারা ছিল, তাদের মধ্যে যখন ফাটল দেখা দেবে, তখনই তৃতীয় কোনো দল কিংবা আওয়ামী লীগ সুযোগটা নেবে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায় মাঝেমধ্যে আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিং হচ্ছে। এটা বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির ঐক্যের ফাটলের অংশ। তাই জাতীয় স্বার্থে দলগুলোকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নেতাদের বক্তব্য

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল যুগান্তরকে বলেন, জামায়াতের বর্তমান আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল একসময় জাসদ করতেন, যা মূলত আওয়ামী লীগেরই অংশ। ফলে ইসলামের নাম নিলেও তারা ভেতরে-ভেতরে পুরোনো আওয়ামী লীগেরই উত্তরাধিকার বহন করছেন। তিনি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করা আর বর্তমান সরকারের সমালোচনা করা এক জিনিস নয়। তিনি বলেন, বিএনপি এখন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সেই আওয়ামী লীগকেই রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। ফলে এর বিরোধিতা আমাদের করতেই হবে।

এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, এনসিপি, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে বৈরিতা চলমান থাকলে নিশ্চয়ই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সুযোগ নেবে এবং নিচ্ছেও। তিনি বলেন, আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার তথা বিএনপি আওয়ামী লীগকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকলেও দল হিসাবে নিষিদ্ধ হয়নি। তিনি দলকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান।