এনসিপি থেকে পদত্যাগ দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতির, আদর্শের সাথে মিল না থাকার অভিযোগ
দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি সদ্য ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। তিনি দলের জাতীয় নারীশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব পদসহ সব পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, দলের কার্যক্রমে আদর্শের প্রতিফলন না দেখে এবং সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
পদত্যাগের সময় ও কারণ
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, এনসিপির ৫৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর প্রীতি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি ফেসবুকে নিজের পেজে একটি পদত্যাগপত্র পোস্ট করে ব্যাখ্যা করেন যে, জাতীয় নির্বাচনের আগেই তিনি দল থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কমিটিতে নিজের নাম দেখে তিনি বিস্মিত হন এবং উল্লেখ করেন যে, এই কমিটির সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
প্রীতি তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, 'জাতীয় নাগরিক পার্টির সকল প্রকার পদ থেকে পদত্যাগ করেছি এবং পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছি, ধন্যবাদ।' তিনি আরও যোগ করেন, 'এনসিপির প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি এই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, দল যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছিল, বর্তমানে দলের কার্যক্রমে তার প্রতিফলন আর দেখা যাচ্ছে না।'
আদর্শের সাথে মিল না থাকার অভিযোগ
প্রীতি তার পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট করে বলেন যে, সাধারণ মানুষের আশা ভঙ্গ হওয়ার এই পরিস্থিতিতে তার পক্ষে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না। তিনি দলের আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এটিকে তার পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষত এনসিপির মতো একটি নতুন দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের ইঙ্গিত দেয়। প্রীতির এই সিদ্ধান্ত দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং নেতৃত্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে এখনো এই পদত্যাগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। প্রীতির পদত্যাগপত্রটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।



