ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা

ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় একটি কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে হরিপুর থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ ছয়জন নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গতকাল শুক্রবার বিকেলে হরিপুরের মেদনিসাগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ বোর্ডের সভা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে শুরু হয়। কলেজটির অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হলে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায়ে তাঁরা ইউএনওকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় জামাল উদ্দিনের নির্দেশে তাঁর সহযোগীরা কলেজটির অধ্যক্ষ ও বোর্ড প্রতিনিধির কাছ থেকে নিয়োগের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন।

মামলা ও প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ হরিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জামাল উদ্দিনকে। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদলের নেতা মোকলেসুর রহমান, মো. ফারুক ও মাসুদ রানাসহ মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, পরে থানায় মামলা করতে গেলে জামাল উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা কলেজের অধ্যক্ষ ও নিয়োগ বোর্ডের প্রতিনিধিকে টেনেহিঁচড়ে থানা থেকে বের করে আনেন এবং মামলা না করতে হুমকি দেন। পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যান।

মামলার বিষয়ে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল ইউএনও নিয়োগের জন্য টাকা নিয়েছেন। এটার প্রতিবাদ করতে ছেলেরা সেখানে গিয়েছিল। তখন ইউএনও তাদের পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখান। তারা বিষয়টি জানালে আমি সেখানে যাই। নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। আমার ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য ওই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।’

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হাকিম আজাদ বলেন, ‘আমি ছুটিতে ছিলাম। আজ কর্মস্থলে ফিরছি। গতকালের ইউএনও কার্যালয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন পরবর্তী কার্যক্রম যা করার, তাই করা হবে।’

আরও তথ্য

  • নিয়োগ পরীক্ষায় চারজন পুরুষ ও চারজন নারী পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন।
  • নিয়োগ বোর্ডে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
  • ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলায় সংঘটিত হয়েছে, যা রংপুর বিভাগের অন্তর্গত।