এমপি-মন্ত্রীদের অফিসে শহীদ আনাসের চিঠি টাঙানোর আহ্বান
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ১২:০২ পিএম। শহীদ আনাস ও তার লেখা চিঠি নিয়ে একটি আবেগঘন আহ্বান জানিয়েছেন লেখক শাহীন সিদ্দিকী। তিনি প্রতিটি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর অফিসে আনাসের চিঠিটি টাঙিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে প্রতিদিন অফিসে প্রবেশ করেই আইনপ্রণেতারা স্মরণ করেন, কার রক্তের বিনিময়ে তারা এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
এক তরুণের অদম্য সাহস
মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস বয়সী আনাসের চিঠিটি পড়লে মনে হয়, যেন একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্য দেখা হচ্ছে। এই কচি বয়সে তার ভিতরে কী অদম্য স্পিরিট ও দ্রোহ লুকিয়ে ছিল! সাধারণত এই বয়সে গেম খেলা বা মায়ের আদরের পুতুল হওয়ার কথা থাকলেও, আনাস নিশ্চিত মৃত্যু জেনে ঠান্ডা মাথায় মায়ের কাছে চিরকুট লিখে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফ্যাসিস্ট শক্তির পতন ঘটলেও, আনাস আর ফিরে আসেনি।
নতুন বাংলাদেশের গল্প
এমন অসংখ্য অকুতোভয় তরুণ বীর সেনানীদের আত্মত্যাগের ফলেই আজকের নতুন বাংলাদেশ ও নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আনাসের মতো যুবকেরা রূপকথাকেও হার মানানো গল্প তৈরি করে, বীরত্বের ইতিহাসে নতুন ধারা যোগ করেছে। শাহীন সিদ্দিকী প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এরপরও বাংলাদেশে নোংরা রাজনীতির চর্চা চলতে থাকে, তবে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে? তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ হবে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির দেশ।
আনাসের চিঠির উদ্ধৃতি
আনাস তার চিঠিতে লিখেছিল, ‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আব্বুজান। তোমার কথা অমান্য করে বের হলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাইরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ল্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকব ঘরে। একদিন তো মরতে হবেই। তাই মৃত্যুর ভয় করে স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যুও অধিক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয় সেই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেঁচে না ফিরি তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হও। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।’
লেখক: উদ্যোক্তা, প্রকৌশলী ও গ্রন্থকার শাহীন সিদ্দিকী।
