প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফেনীতে উৎসবের বন্যা
প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী মিন্টু, ফেনীতে উৎসব

প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিত্ব পেলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু, ফেনীতে আনন্দের জোয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরাসরি মন্ত্রী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু। মঙ্গলবার বিকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার এই অর্জন এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

দাগনভূঞা-সোনাগাজীতে উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ

আবদুল আউয়াল মিন্টুর মন্ত্রী হওয়ার সংবাদে ফেনী-৩ আসনের দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলায় আনন্দের বন্যা বইছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পৌর শহর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে মিষ্টি বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ৫৪ বছর পর দাগনভূঞায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এবং সঙ্গে মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

দাগনভূঞা উপজেলা সদরে পৃথকভাবে আনন্দ উদযাপন করা হয়, যেখানে দলীয় কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন এবং এলাকার উন্নয়ন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। জনগণের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু দাগনভূঞা-সোনাগাজীর ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।’

ফেনীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

আবদুল আউয়াল মিন্টুর মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় ফেনীবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। এর আগে ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে বস্ত্র ও পাট এবং বন ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে বিদায় নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার পর ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি। এবার মন্ত্রী পাওয়ায় ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হলো।’ দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুল উদ্দিন কামরুল যোগ করেন, ‘এই বিজয় ও মন্ত্রিত্ব দাগনভূঞা-সোনাগাজী জনপদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। আমাদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে এলাকার অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।’

আবদুল আউয়াল মিন্টুর পটভূমি ও পরিবার

দেশের খ্যাতিমান শিল্পপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দুবারের সভাপতিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইতোমধ্যে নিজ যোগ্যতায় বেশ কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেন। নিজ এলাকা দাগনভূঞায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকা রেখে আসছেন।

তার বাবা প্রয়াত হাজী সফিউল্যাহ দাগনভূঞা উপজেলার দুবারের চেয়ারম্যান ও ভাই মো. আকবর হোসেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘উইমেন এন্টারপ্রিনার্স অ্যাসোসিয়েশান (ওয়েব)’এর চেয়ারপারসন। তার জ্যেষ্ঠ ছেলে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি ছাড়াও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা

দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আকবর হোসেন বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে শতভাগ চেষ্টা করবেন। দাগনভূঞা-সোনাগাজীকে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।’ সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম উল্লেখ করেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টুর মন্ত্রী হওয়ার সংবাদে এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।’

জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দাগনভূঞা তথা ফেনীর উন্নয়নে আবদুল আউয়াল মিন্টুর অনন্য অবদান রয়েছে। মন্ত্রী হয়ে তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন বলে আশা করছি।’ এই বিজয়ের মাধ্যমে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা করছে, যা এলাকার ভাগ্যাকাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।