পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন: গুদামঘরের তালা খোলার ঘটনায় ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন পঞ্চগড়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দাবি করেন, ভিডিওতে দেখা স্থানটি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল না, বরং এটি একটি গুদামঘর।
ঘটনার পটভূমি ও বিএনপি নেতার বক্তব্য
আবু দাউদ প্রধান বলেন, তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান। গতকাল সকালে গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে আসার পথে চাকলাহাট বাজারে লোকজনের জটলা দেখে সেখানে যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী একটি গুদামঘরের তালার চাবি দিচ্ছিলেন না। পরে তিনি ওই কর্মীকে চাবি দিতে বললে তালা খুলে দেওয়া হয় এবং চাবিটি বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, 'এ সময় আমি ঘরটি গুদামঘর বলেই জানতাম। সেখানে কোনো চেয়ার, টেবিল বা কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ছিল না। ঘটনার সময় আমি লোকজনকে সামলাতে গিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন—তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। পরে শুনেছি সেখানকার ভিডিও আওয়ামী লীগ অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।'
ভিডিও ছড়ানো ও রাজনৈতিক অভিযোগ
আবু দাউদ প্রধান অভিযোগ করেন, তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ঘটনাস্থলটি কখনোই আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং এটি একটি সাধারণ গুদামঘর ছিল।
এর আগে গতকাল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আবু দাউদ প্রধান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আনিসুজ্জামান স্বপনসহ আরও অনেকে। ভিডিওতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় খুলে দেওয়ায় আবু দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায়।
সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট
সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি শুধুমাত্র একটি গুদামঘরের তালা খোলার ঘটনায় মধ্যস্থতা করেছিলেন, কোনো রাজনৈতিক অফিস খোলার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি এই ঘটনাকে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জনগণের কাছে সত্যতা তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এই ঘটনা পঞ্চগড়ের স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে টানাপোড়েন চলমান। আবু দাউদ প্রধানের এই ব্যাখ্যা রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভিডিও ছড়ানোর পিছনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



