এনসিপি নেতার অভিযোগ: বিএনপি-আওয়ামী লীগ গোপন আঁতাতে ক্ষমতায়, ভোট কারচুপি হয়েছে
এনসিপি নেতার অভিযোগ: বিএনপি-আওয়ামী লীগ গোপন আঁতাত

এনসিপি নেতার অভিযোগ: বিএনপি-আওয়ামী লীগ গোপন আঁতাতে ক্ষমতায়

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে বিএনপি আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ক্ষমতায় এসেছে। শুক্রবার রাতে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনি ফলাফল পর্যালোচনা ও দলীয় অবস্থান নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগটি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।

দুই দলের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত

আসিফ মাহমুদ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস খুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে এই প্রক্রিয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। এই ঘটনাকে তিনি দুই দলের মধ্যে সমঝোতার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তিনি আরও মন্তব্য করেন যে স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভের চেষ্টা করেছে। দেশের আইনে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালু করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।

ভোট কারচুপি ও ফলাফল নিয়ে কারসাজির অভিযোগ

আসিফ মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে বেশ কয়েকটি আসনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে এনসিপিকে হারানো হয়েছে। জোটবদ্ধভাবে ৩০টি আসনে অংশ নিয়ে ছয়টিতে জয় পেলেও অন্তত তিনটি আসনে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বিশেষভাবে ঢাকা-৮ ও পঞ্চগড়-১ আসনসহ কয়েকটি এলাকায় অনিয়মের কথা উল্লেখ করেন। এসব আসনে পুনরায় ভোট গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হবে বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান।

নির্বাচন-পরবর্তী হামলা ও ফলাফল নিয়ে সন্দেহ

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা আরও বলেন যে নির্বাচনের পর এনসিপির নেতাকর্মী ও জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি অভিযোগ করেন যে গভীর রাতে অসৎ উদ্দেশ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে এবং অনেক আসনে রেজাল্ট শিটে একাধিকবার কাটাকাটি করে ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ দাবি করেন যে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী করাতে প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ফলাফল নিয়ে কারসাজি করেছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়েও তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে এ ধরনের ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হবে না।

এনসিপির এই সংবাদ সম্মেলনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আসিফ মাহমুদের এই অভিযোগগুলোর প্রমাণ ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।