ফেনীতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন কাওসার তার স্ত্রী বিবি জহুরাকে ভোট দেওয়ার কারণে তালাক দিয়েছেন। তবে এখন তিনি মুফতির পরামর্শ নিয়ে ফের সংসার করতে চাইছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও রাজনৈতিক মাত্রা
বৃহস্পতিবার ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় কাওসার জহুরাকে মৌখিকভাবে তালাক দেন। জহুরা জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছিলেন এবং তা ধানের শীষে প্রয়োগ করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনার পর কাওসার জনতার রোষ থেকে পালিয়ে গেলেও শুক্রবার দুপুরে বাড়িতে ফিরে আসেন। স্থানীয়দের চাপে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, একজন মুফতির পরামর্শ নিয়ে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে আবার সংসার করতে চান।
বিএনপির হস্তক্ষেপ ও সমর্থন
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি নেতারা জহুরার সঙ্গে দেখা করতে যান। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, ফেনী পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জহুরা, তার শাশুড়ি ও অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বলেন। বিপ্লব জানান, বিএনপি জহুরার বিপদে পাশে আছে এবং তার সংসার পুনর্গঠন, পরিচালনা ও সন্তানদের ভরণপোষণে সহায়তা করবে। আবদুস ছাত্তারও আইনি ও সামাজিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
পরিবারের অবস্থান ও অতীত ইতিহাস
কাওসারের মা শরীফা খাতুন বলেন, তার ছেলের অপরাধের জন্য শাস্তি পেতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে কাওসার যদি ঘরে ফিরতে চান, তাহলে তাকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়েই বসবাস করতে হবে। জহুরাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে কাওসারকে আর পিতার ঘরে জায়গা দেওয়া হবে না।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের তিন সন্তান রয়েছে: আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) এবং ইসরাত জাহান ইসমাত (৪)। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই কাওসার জহুরাকে নিয়মিত মারধর করতেন এবং এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিক বিচারও হয়েছে। এমনকি শ্বশুরকেও তিনি কয়েকবার মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাওসারের পেশা ও রাজনৈতিক প্রভাব
কাওসার ফেনী শহরের রেল গেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয় সালিশদার মোহাম্মদ আজাদ বলেন, কাওসার এক ধরনের উগ্র ব্যক্তি এবং আওয়ামী লীগের সময়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন। জহুরা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান, কারণ পিতার পরিবার অসচ্ছল এবং সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার উপরই বেশি পড়ে।
এ ঘটনায় ফেনীতে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা কাওসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে জহুরা ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সমাধান চেয়ে কাওসারের সংসারেই থাকতে চান। এখন দেখা যাক, এই জটিল পরিস্থিতির কী সমাধান হয়।
