বিএনপির সরকার গঠন: সংস্কার, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসহ অগ্রাধিকারমূলক খাতসমূহ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে এ ফলাফল দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
নতুন সরকার গঠন ও নেতৃত্ব
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে জোরালোভাবে ধারণা করা হচ্ছে। 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান বা মূলনীতি নিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া কিছু মূল প্রতিশ্রুতি নিচে তুলে ধরা হলো:
সংস্কার খাতে অগ্রাধিকার
জুলাই সনদের সব দফা বাস্তবায়ন করা—যার লক্ষ্য হলো নতুন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান তৈরি, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও ব্যাপক পরিবর্তন করা। এছাড়া, বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া এবং রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা হবে। বৈধভাবে পরিচালিত বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের নির্ধারিত লভ্যাংশ ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরাতে পারে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উদ্যোগ
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য ও মূল্যসূচকভিত্তিক মজুরি নিশ্চিত করা এবং প্রতি দুই বছর অন্তর তা পর্যালোচনার ব্যবস্থা চালু করা হবে। তরুণদের মধ্যে কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা, আঞ্চলিক ই-কমার্স হাব প্রতিষ্ঠা করা এবং 'মেক ইন বাংলাদেশ' উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য মাসিক বরাদ্দ থাকবে।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উন্নয়ন
স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। সামাজিক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য 'মিড-ডে মিল' বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি চালু করা হবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে।
উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলা হবে। সব ধর্মের উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালু করা হবে।
বিএনপির এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
