বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বার্থকেন্দ্রিক, বিশেষ দেশকেন্দ্রিক নয়: আমীর খসরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গুলশান, ঢাকা। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিশেষ দেশকেন্দ্রিক হবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস
আজ শুক্রবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দেশ নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় বিএনপি।’
এর আগে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠক হয়। সেখানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা ও নির্বাচনী জয়
নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা জানানোর প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে আমীর খসরু বলেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ ও সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়টি এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয় প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের মতো এবারও বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে। এই জয়কে তিনি মানুষের ‘আস্থা’ হিসেবেই দেখছেন।
জাতীয় সরকার গঠন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার
এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাঁদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকাদের নিয়ে বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে।
এ ছাড়া গণতন্ত্রকে টেকসই করতে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তিনি বলেন, সংসদের ভেতর ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা জরুরি। এটি বজায় থাকলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই সাক্ষাৎকারে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতিগত দিকনির্দেশনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দলটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করতে চাই, যেখানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকবে।’ এই প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় আমীর খসরু আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বার্থকেন্দ্রিক।’
