বিএনপি মহাসচিবের দাবি: আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নেই জামায়াতের উত্থান
বিএনপি মহাসচিব: আওয়ামী লীগের দমনেই জামায়াতের উত্থান

বিএনপি মহাসচিবের দাবি: আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নেই জামায়াতের উত্থান

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়নমূলক শাসনের ফলেই জামায়াতে ইসলামীর উত্থান ঘটেছে। তিনি এটিকে ফ্যাসিস্ট শাসনের পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ

আজ শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামীর উত্থান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট শাসনের ফলে এটা হয়েছে। এটা একটা বিজ্ঞান, পলিটিক্যাল সায়েন্সের একটা অংশ। যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, মানুষের কণ্ঠ রোধ করা হয়, তখন উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে—সেটাই এ দেশে ঘটেছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আজকে জামায়াতের যেটুকু উত্থান হয়েছে, তা আওয়ামী লীগের কারণেই হয়েছে। তাদের দমন–পীড়নমূলক শাসন, বিরোধী দলকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়া, নির্বাচন করতে না দেওয়ার কারণে এটা হয়েছে।"

বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "আমি অত্যন্ত কনফিডেন্ট, বাংলাদেশের জনগণ ইতিমধ্যে তাদের (জামায়াত) রিজেক্ট করেছে। বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গেছে। জনগণ আবারও সুষ্ঠু, সৎ ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির মধ্য দিয়ে তাদের অপপ্রবণতাগুলোকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।"

তিনি দাবি করেন, বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও পয়েন্টগুলো জনগণ গ্রহণ করেছে, যা ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টোরি হিসেবে বিবেচিত। জাতীয় সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা সব সময় আমাদের কমিটমেন্টে অটল থাকি। আমরা বলেছিলাম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যাঁরা বিএনপির সঙ্গে রাস্তায় যুগপৎ আন্দোলন করেছেন, যাঁদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করেছি, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ইনশা আল্লাহ সরকার গঠন করব।"

জুলাই সনদ ও রংপুর বিভাগের পরিস্থিতি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "জুলাই সনদের যেসব অংশে আমরা সই করেছি, এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে থাকব। আমাদের যে ৩১ দফা আছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে কার্যকর করব।"

রংপুর বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর বেশি আসন পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এটার বিভিন্ন কারণ আছে। বৃহত্তর দিনাজপুরে কিন্তু জামায়াত একটাও আসন পায়নি। বৃহত্তর দিনাজপুরে ৩টি জেলা, ১১টি আসন। সেই আসনগুলো বিএনপি পেয়েছে। আমরা আশাবাদী, আমরা যদি জনগণের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারি, রাজনৈতিক-সাংগঠনিকভাবে যদি কাজ করতে পারি, অবশ্যই এই প্রবণতাকে দূর করতে পারব।"

এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সাবেক সহসভাপতি আবু তাহের, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।