গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের আহ্বান ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান উসামার
গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের আহ্বান মুফতি আলী হাসান উসামার

গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের জন্য ইসলামিক স্কলারদের ব্যাপক আহ্বান

দেশের আলোচিত ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান উসামা গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে তিনি এই আহ্বান ব্যক্ত করেন এবং সংবিধান সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেন।

মুফতি উসামার যুক্তি ও অবস্থান

মুফতি আলী হাসান উসামা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'যদি ১৯৭২ সালের কুফরি সংবিধানের জাহেলি মূলনীতিগুলোই বহাল রাখতে চান, তাহলে গণভোটে 'না' ভোট দিন। আর যদি সংস্কার চান, উচ্চকক্ষ চান, শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন চান, তাহলে 'হ্যাঁ' ভোট দিন।' তার এই বক্তব্যে তিনি বর্তমান সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

অন্যান্য প্রখ্যাত আলেম-উলামাদের সমর্থন

মুফতি উসামার আহ্বানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ এবং জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার মিজানুর রহমান আজহারীসহ দেশের প্রখ্যাত আলেম-উলামারাও গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, 'হ্যাঁ ভোট মানে শুধু পরিবর্তন নয়-হোক মূল্যবোধ অক্ষুন্ন রেখে পরিবর্তনের অঙ্গীকার।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সংস্কার সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে কার্যকর করতে হবে এবং এতে আলেমদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

মিজানুর রহমান আজহারী তার বক্তব্যে বলেন, 'একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন।' তার এই আহ্বান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দায়বদ্ধতা ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের অবস্থান

এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশও গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। বুধবার রাতে সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'দলে দলে গণভোটে “হ্যাঁ” দিয়ে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী অপশক্তির তৈরিকৃত গণবিরোধী সংবিধান ও রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারের পথ খুলে দিতে হবে।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও পশ্চাদপদ আমলাতন্ত্রের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ, প্রতিবাদী আলেমসমাজ ও ইসলামপন্থীদের দমন-পীড়ন বন্ধ করতে গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গণভোটের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

এই আহ্বানগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আসন্ন গণভোটের প্রেক্ষাপটে এসেছে। ইসলামিক স্কলার ও সংগঠনগুলোর এই সম্মিলিত অবস্থান দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তাদের মতে, গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার মাধ্যমে:

  • সংবিধানের আমূল সংস্কারের পথ সুগম হবে
  • রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে জবাবদিহিতা ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে
  • ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ সংরক্ষিত হবে
  • দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে

এই আহ্বানগুলো দেশের বিভিন্ন ইসলামিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং গণভোটের ফলাফলের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে চিন্তার খোরাক যুগিয়েছে।