রাউজানে বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে এলাকা
রাউজানে বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণ, আতঙ্ক

রাউজানে বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলিবর্ষণ, এলাকায় আতঙ্ক

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের শমসের পাড়া গ্রামে এক বিএনপি নেতার বাড়িতে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার সকাল ১০টার দিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হামলার শিকার বিএনপি অনুসারী

ভুক্তভোগী রুস্তম আলী চৌধুরী ওই এলাকার মৃত কবির আহমেদের ছেলে। তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা নির্বাচন বানচাল করতে এ হামলা চালিয়েছে।” তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

প্রবাসী নেতার দেশে ফেরা ও হামলা

রুস্তম আলী চৌধুরীর ভাই আজম শাহ চৌধুরী জানান, তার ভাই ২০০৩ সালে দুবাইয়ে যান এবং সেখানেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। তিনি প্রবাসী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক সপ্তাহ আগে দেশে ফেরেন।

আজম শাহ চৌধুরী বলেন, “আমরা কোনো ধরনের হানাহানিতে জড়িত নই। কেন আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হলো, তা বুঝতে পারছি না। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।” ঘটনার পর রুস্তম আলী চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ও আতঙ্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ২০-৩০ জনের একটি দল দৌড়ে একটি সড়ক অতিক্রম করছে এবং এ সময় একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। এই ঘটনার পর হতে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও একই এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পুলিশ ও সেনার তদন্ত

রাত ৯টার দিকে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, ৭-৮ জনের একটি দল রুস্তম আলী নামের এক ব্যক্তির বসতঘর লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এবং তাকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ করে। ঘরের একটি জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। ওসি পলাশ বলেন, “এই বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ আসে নি। কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে স্থানীয়রা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।