মুন্সীগঞ্জে নির্বাচনী উত্তেজনায় সংঘর্ষ: পাঁচজন আহত
মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে পাঁচজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেষ হওয়ার পরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
আহতদের অবস্থা ও ঘটনার বিবরণ
আহতদের মধ্যে ইকবাল হোসেন (৩২), জয় ব্যাপারি (৩৮) এবং জুয়েল শেখ (৪০) গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। বাকি দুইজন আহত ব্যক্তির নাম এখনও জানা যায়নি। আহত জয় ব্যাপারি ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, "বিএনপির সমর্থকরা একটি মিছিল নিয়ে পূর্বরাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এলে আমরা তাদের মিছিল করতে নিষেধ করি, কারণ নির্বাচনের প্রচারণার সময় শেষ হয়ে গেছে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে।"
চিকিৎসা ও পুলিশের তৎপরতা
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাসুদুর রহমান জানান, সন্ধ্যায় শিলই থেকে তিনজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হলে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মমিনুল ইসলাম ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "পুলিশের একটি টিম ইতিমধ্যে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। আমরা এখন সেখানে যাচ্ছি। কী কারণে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি বিএনপির সমর্থকরা সে এলাকায় গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।"
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট
মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর ও গজারিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনী প্রচারণার সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার পরও উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং আরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই সংঘর্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
