পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়, মমতার কারচুপির অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়, মমতার কারচুপির অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গড়তে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয়কে ‘অনৈতিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দলটির প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় কলকাতায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে শতাধিক আসন ‘লুটে’র অভিযোগ তোলেন।

মমতার কারচুপির অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ১০০টিরও বেশি আসনে কারচুপি করেছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি কোনো নৈতিক জয় নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তায় যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ।’ তৃণমূল সুপ্রিমো পরাজয় মেনে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আরও বলেন, ‘আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াব।’

মোদির প্রতিক্রিয়া

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল সুশাসনের রাজনীতির জয় হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

নির্বাচনের ফলাফল ও গণনার সময় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমসহ বেশ কিছু আসনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও কমিশন শংসাপত্র দিতে দেরি করছে। গণনা চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানেও গণনার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চূড়ান্ত ফলাফল

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবিরের এজেইউপি দুটি করে আসনে জয় পেয়েছে। সিপিআই(এম) ও এআইএসএফ একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।