জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে কঠোর ভাষায় বলেন, ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সঙ্গে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে। বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য অনুরোধ করবো। যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার, তোরা আল শামস, তোরা আল বদর।
সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত যখন ঘটে, সেটা একদিনে ঘটে না। জুলাই বিপ্লবের সৃষ্টি শুরু হয়েছে সেই ১৩-১৪ বছর আগে থেকে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল অঙ্গসংগঠন তিলে তিলে আগুন সৃষ্টি করেছে। যে আগুন জ্বলেছিল জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে, সেদিন ফ্যাসিবাদকে বিদায় নিতে হয়েছিল।
মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি ৭১ দেখেছি, বর্ডারে যুদ্ধ করেছি বিলোনিয়া সীমান্তে। আজকে যারা গণতন্ত্রের শপথ দিতে চায়, যারা ৭১-কে ২৪-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়, খাটো করে দেখতে চায়। তাদের একটি কথাই বলতে চাই, ভালোভাবে আচরণ করে যাচ্ছি, ভদ্রতার সঙ্গে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে সর্বদলীয় এই সংসদ থেকে কমিটি করেছেন। বেশি বাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ করবো। পাকিস্তানে গিয়েছিলাম ২০০৪ সালে, জামায়াতে ইসলামীর একজন এমপি আমার সঙ্গে গিয়েছিলেন ‘সাফমা’ কনফারেন্সে। আমি মুক্তিযোদ্ধা জেনে পাকিস্তানের একজন এমপি যে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আমাকে করেছিল, আই কান্ট ফরগেট দ্যাট সিচুয়েশন বিকজ আই ওয়াজ এ ফ্রিডম ফাইটার। তবু দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে চুপ করে থাকি, কিছু বলি না। কিন্তু যখন বেশি বাড়াবাড়ি করে তখন বলতে ইচ্ছা করে, তোরা রাজাকার তোরা আল শামস, তোরা আল বদর।
সমঝোতার আহ্বান
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা দেশটাকে স্বাধীন করেছি। স্বাধীনতা পাওয়া সেই দেশটিকে গড়ার লক্ষ্যে ঐক্য করতে চাই। কিন্তু, আদর্শের বিরুদ্ধে গিয়ে নয়। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সমঝোতা আদর্শের সমঝোতা নয়। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা এখন নেই, উনি কালকে বলেছিলেন উনাকে কেন এত কসলায়। মাননীয় স্পিকার, আমি একটু কসলে দিতে চাই।



