বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের তিন নেত্রীর মনোনয়ন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের তিন বিশিষ্ট নেত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই নামগুলো প্রকাশ করেন। এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মনোনীত তিন নেত্রীর পরিচয় ও সংগ্রাম
শাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রয়াত হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান করেন। এই কাজের জন্য তিনি হয়রানির শিকার হন এবং একটি জঙ্গি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেন, যদিও পরে আদালত তাঁকে খালাস দেন। ২০২৫ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রামভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠনকে অর্থায়নের অভিযোগে করা মামলায় শাকিলা ফারজানাসহ ২৫ জন খালাস পান। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
শামীম আরা স্বপ্না কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে টানা দুই দশক ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কক্সবাজার জেলা আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন, একাধিক মামলার আসামিও হন। তাঁর স্বামী মো. জসিম উদ্দিন মহেশখালী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন এবং শামীম আরা স্বপ্না জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই।’
মেদাওয়ে মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনীত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী, যিনি পেশায় আইনজীবী এবং বর্তমানে জেলা পরিষদের সদস্য। যদিও বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনে তাঁর নির্দিষ্ট পদ সম্পর্কে দায়িত্বশীল নেতারা স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি, মাধবী মারমা গত শুক্রবার উল্লেখ করেন যে কোনো পদে না থাকলেও দলে সবার গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছেন।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের প্রস্তুতি
বিএনপি ১৭ এপ্রিল থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে, যেখানে দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন। এই প্রক্রিয়ায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে, যা দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়। জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে এবং প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হবে, যা নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মনোনয়নগুলো বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে দলের ভিত্তি শক্তিশালী করতে। নেত্রীদের আইনি লড়াই ও দলীয় কাজে সক্রিয় ভূমিকা তাদের মনোনয়নে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেন। আগামী নির্বাচনে এই মনোনীত প্রার্থীদের ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নারী নেতৃত্বের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



