বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ফারজানা সিঁথি বাদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (২০ এপ্রিল) নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই চূড়ান্ত তালিকায় আলোচিত মডেল ও অ্যাক্টিভিস্ট ফারজানা সিঁথির নাম স্থান পায়নি, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা
চূড়ান্ত তালিকায় মনোনয়ন পেয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ মোট কয়েক ডজন প্রার্থী। এই প্রার্থীরা দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ফারজানা সিঁথির প্রার্থিতা ও বাদ পড়ার পটভূমি
এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন ফারজানা সিঁথি। তিনি নড়াইল-২ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন এবং তার সামাজিক সক্রিয়তা ও মডেলিং ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। তবে চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম না থাকায় বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফারজানা সিঁথি যশোরের বাসিন্দা এবং ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট শাহবাগ থানার এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হন। তিনি দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং একটি মিউজিক ভিডিওতেও মডেল হিসেবে অংশ নিয়েছেন, যা তাকে গণমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রতিক্রিয়া
দলীয় সূত্র বলছে, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ফারজানা সিঁথি বাদ পড়ায় অনেক সমর্থক ও পর্যবেক্ষকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দলের ভবিষ্যৎ কৌশল ও জনসমর্থনকে প্রভাবিত করতে পারে। বিএনপির নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিত্ব ও দলীয় নির্বাচনী কৌশলের প্রেক্ষাপটে। ফারজানা সিঁথির মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের বাদ পড়া এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে, যা আগামী দিনগুলিতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।



