১৭ বছরে অর্থনীতি ফোকলা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১৭ বছরে অর্থনীতি ফোকলা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) বিকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

অর্থনীতি ফোকলার অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে জনগণের শাসন, কথা বলার এবং রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন দেশ গড়ে তোলা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের মানুষের লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং সম্পদ পাচার করে অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে।

স্বৈরাচার বিতাড়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা

তারেক রহমান বলেন, আন্দোলন ও অনেক জীবনের বিনিময়ে দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসা স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করা হয়েছে। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্যই আন্দোলন করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের জনগণ তাতে সফল হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের রাজনীতিকরণ ও চিকিৎসা সেবা ধ্বংস

তিনি বলেন, বিগত সরকার প্রশাসনকে রাজনীতিকরণ করে দক্ষতা নষ্ট করেছে। অন্য দেশের চিকিৎসা সেবার সুবিধার জন্য দেশের চিকিৎসা সেবা ধ্বংস করা হয়েছে। উন্নয়নের নামে মানুষের অর্থ লুট হয়েছে। গ্রামে উন্নয়ন না হলেও শহরে ফ্লাইওভার হয়েছে, কিন্তু রাস্তাঘাট ভাঙা।

রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশ কেলেঙ্কারি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মীদের জন্য ৮০ হাজার টাকায় বালিশ কেনা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন করেন, একটি বালিশের দাম কখনো আশি হাজার টাকা হতে পারে? জনগণের এই টাকাই বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টেকনিক্যাল কলেজের প্রতিশ্রুতি

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা বলেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, গত একযুগে কেন টেকনিক্যাল কলেজ হলো না? টেকনিক্যাল কলেজ হলে এলাকার যুবকরা দক্ষ শ্রমিক হিসেবে প্রশিক্ষিত হয়ে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান পাবে।

বিশ্বখাল পুনঃখনন

তিনি বলেন, বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা বিগত এক যুগের বেশি সময় সংস্কার হয়নি। খনন হলে এলাকার মানুষ ও কৃষকরা উপকৃত হবে, কারণ গ্রামে প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ বসবাস করে।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড

প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বলেন, তরুণ-যুবকদের প্রশিক্ষিত এবং মেয়েদের শিক্ষিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রতিটি পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সার-বীজ ক্রয়ের জন্য কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।

সমাবেশে উপস্থিত নেতারা

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কৃষি ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হক দুলু, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, শরীয়তপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন ও সাংগঠনিক সভা

পরে বিকালে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কলেজ মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ল্যাপটপের বাটন টিপে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন ও বিতরণ করেন। এরপর সন্ধ্যায় তিনি চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপি আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।